শিক্ষনীয় একটি গল্প।
আশা করি উপকৃত হবেন।

রাত ৪ টা ১৫ মিনিট বাজে
মুয়াজ্জিন মাইকে  ফজিরের আজান দিচ্ছেন ,পাশ ফিরে উঠতে যাবো, তখনই খেলাম বড় ধরনের একটা ধাক্কা।

আবছা আলোতে দেখলাম আমার মতো দেখতে আমার পাশে কে একজন শুয়ে আছে। 
চিন্তায় পরেগেলাম ভাবলাম এইটা আবার কে ??

ভয়ে ভয়ে তাকে নাড়া দিলাম দেখলাম অচেতন। কোন কথা বলছে না, শরির ঠান্ডা। কিছুক্ষন পরেই মনে হলো ভদ্রলোক মারা গেছেন।চিন্তা করলাম এই লাশটা এখানে কেনো...? আবার দেখতে পুরপুরি আমার মত...?

স্বপ্ন দেখছিনা তো...? না সত্যিই তো... অনেকক্ষন চিৎকার করে সবাইকে ডাকার চেষ্টা করলাম । 
কিন্তু এ কি? কেউই আসছেনা... একটু পরে দেখলাম ছোট বোন রুমের লাইট জালালো এবং ঐ লাশটার কাছে এসে বলল " ভাই ফজরের আজান হয়ে গেছে" ...!
  
আমিতো পুরাই অবাক, এইসব হচ্ছেটা কি ...? তার কাছে গিয়ে বললাম , ঐ তর কি মাথা খারাপ হইছে লাশ কে কেনো ডাকছিস, আর লাশটা এই রুমে আশলো কি করে ? এইটা কার লাশ? 

দেখলাম ,সে আমার কথায় কোন কোর্ণপাতই করলো না । সেও লাশটা ধরে অবাক হলো এবং চিৎকার করে উঠলো, মুহুর্তেই পাশের রুম থেকে আব্বু-আম্মু এসে স্তব্ধ। ধপ করে খাটে বসে লাশটাকে ধরে ঝাঁকাতে লাগলো এবং চিৎকার করতে লাগলো, "বাবা কি হয়েছে তোর? কথা বলছিস না কেনো? কথা বল? আম্মু ব্যাপারটা বুঝার সাথে সাথেই বেহুঁশ ।  

চিৎকারের আওাজে চাচা-চাচি,ভাবি, কাজিনরা সবাই জড়ো হলো। লাশটা দেখেই সবাই ইন্নালিল্লাহ... পড়তে লাগলো, আশেপাশে কান্নার রুল পরে গেছে...।

মুয়াজ্জিন যখন বাবার নাম নিয়ে বল্ল অমুকের ছেলে অমুক ইন্তেকাল করেছে।  তখন মনে হল হাই ভোল্টেজের শক খেলাম।

সবাই আমাকে বাদ দিয়ে লাশটা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়লো। কাউকেই বুঝাতে পারলাম না যে, আমি বেছে আছি। মনে হলো সবাই পাগল হয়ে গেছে। এক কাজিন কে ক্ষেপে গিয়ে একটা ধাক্কাও মেরেছিলাম, সে দেখলাম বিন্দু মাত্র প্রতিবাদ করল না।

ফজরের পর লাশটা গোসল দেয়ার ব্যবস্থা করা হলো । মুওয়াজ্জিন সাহেব আরেকজনকে নিয়ে আসলেন গোসল দিতে । দুজন বলাবলি করতে লাগলেন ,"আরে মৃত্যু কার কখন আসে বলা যায় না। এইরকম তাগরা মানুষ মারা যাইবো কে ভাবছে...? কাল বিকালেও তো আমাদের সাথে হাসিখুসি ভাবে কত কথা বলল... । 

" আমি লাশটার পাশেই ছিলাম", দিড়িয়ে উনাদের কথা শুনছিলাম। গোসলের পর কাফনের কাপর পড়িয়ে খাটাইয়ের উপর রাখ হয়েছে।  লাশ ঢাকার জন্য মসজিদ থেকে কাল রঙ্গের কাপড়টা আনা হয়েছে। সবাইকে শেষবারের মত লাশ দেখার সুযোগ করে দেয়া হলো।

এখনো আমার কাছে সব কিছু পরিষ্কার না, কিছুই বুঝতে পারছি না। বাসার আশপাশে প্রচুর মানুষের ভিড়। আত্মিয়-স্বজন ,বন্ধু-বান্ধব সবাই এসেছে লাশটাকে দেখতে। কত পরিচিত-অপরিচিত মানুষ কান্নাকাটি করছে। কিন্তু কাউকেই বুঝাতে পারলাম না যে,আমি মারা যাই নি!! আমি বেছে আছি। 
এটা অন্য কারো লাশ।  কেউ আমার কথা শুনতেই পারছে না ..। 

যোহরের পর জানাযা। আযান হয়ে গেছে। লাশ নিয়ে যাওয়ার মূহুর্তে আম্মু আর বোন সে কি কান্না...। আত্মীয়রাও কান্না করে উঠলো।  আহা হৃদয়স্পর্শী এক দৃশ্য। অবাক ব্যপার। কিন্তু আজ কিছুই মনে হচ্ছে না , আমি পুরপুরীই সুস্থ, আর শরীরটাও অন্য দিনের তুলনায় হালকা মনে হচ্ছে। 

যাই হোক... লাশ চৌরাস্তা ঈদ্গাহ মাঠে জানাজার জন্য নিয়ে যাওায়া হলো । ঈদগাহ মাঠ লোকে লোকারণ্য। একটোও জায়গা খালি ছিলো না । বাবা কিছু কথা বলার পর ইমাম সাহেব একটু বয়ান করে জানাজার নামাজ পড়ালেন । 

জানাজা শেষে লাশ কবস্থানে নিয়ে যাওয়া হলো, সেখানে দাদুর কবরের পাশেই একটা কবর খনন করা হয়েছে। ঠিকঠাক ভাবে লাশ দাফন করে সবাই আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে লাগলো । মুনাজাত শেষে সবাই যার যার মত চলে গেলো কিন্তু বাবা বসে থাকল । তাকেও জোর করে নিয়ে যাওয়া হলো।  অবশেষে আমার কাছে সব পরিষ্কার হতে লাগলো যে, আসলেই আমি আর এ জগতে নেই।  

আহ! যদি আরেকটা সুযোগ পেতাম ,তাহলে কতযে আমল করতাম , সব সময় মজসজিদ-মাদ্রাসাতে পড়ে থাকতাম ...।

কিন্তু তাতো আর হবার নয় , একটু পরে দেখি আমিও বডিটার মধ্যে যাচ্ছি। আমি পুরপুরি নিজেকে ফিরে পেলাম। কিন্তু এ কি!! চারিদিকে অন্ধকার আর অন্ধকার । অনেক ভয়ে আছি । হয়তো একটু পর মুনকার নাকির ফিরিস্তা আসবেন............। বিভিন্ন প্রশ্ন করবেন , না পারলেই শুরু হবে আযাব... ।

চিন্না করতে করতেই দেখি আমার পাশে দুজন ব্যক্তি , উনাদের দেখেই ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম এবং সাথে সাথেই ঘুম  বেঙ্গেগেল ...............।

শুয়ে শুয়ে চিন্তা করলম এগুলো একধিন তো হবেই। শোয়া থেকে উঠে বসলাম ,শরীরের প্রতিটা লোম দাঁড়িয়ে গেছে। ভাবলাম এখই আমাকে বদলাতে হবে। এই শপ্ন আমাকে বদলাতে সাহায্য করবে।

প্রতিটা মানুষকে এভাবেই প্রতিদিন মৃত্যুকে স্মরন করা উচিৎ। তাহলেই আশা করা যায় গুনাহ থেকে মন কে বিরত রাখা যাবে এবং কবরের প্রস্তুতি নেয়া যাবে......। 

আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাই কে হেদায়াত দান করুন (( আমিন))

Post a Comment

thenks for your comment

Previous Post Next Post