হযতর দাহিয়াতুল কালবী (রাঃ)'র তাওবার ঘঠনা ।

আল্লাহর ভয়ে আপনার চোখে পানি আসে না !? কে বলেছে  মাত্র  একবার পড়ে দেখুন।

 হযরত দাহিয়াতুল কালবী আল্লাহর হাবিব (সাঃ)'র কাছে গেলেন তাওবা করার জন্য। বললেন ইয়া রাসুলুল্লাহ আমি ৭০ জন জীবিত শিশুকন্যাকে নিজ হাতে দাফন করেছি। এ গুনাহ কি আল্লাহ মাফ করবেন?  আল্লাহর রাসুল (সা:) বললেন হ্যাঁ এ গুনাহ মাফ করবেন ।

হযরত দাহিয়াতুল কালবী (রাঃ) বললেন ইয়া রাসুলাল্লাহ আমি এমন একটা গুনাহ করেছি  যেটা আল্লাহ বুঝি মাফ করবেন না। হুজুর (সাঃ) বললেন সেটা কি? 

হযরত দাহীয়াতুল কালবী (রাঃ) বললেন তাহলে শুনুন ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ,আমার একটি ফুট ফুটে মেয়ে জন্মে ,ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ) মেয়ে আমার পূর্ণিমার চাদের মত উজ্বল ছিলো। মেয়ের মা আমার ভয়ে মেয়েটিকে গোপনে মামার বাড়ি পাঠিয়ে আমাকে মরা মেয়ে জন্ম হয়েছে বলেছিলো।

ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ) মেয়ের বয়স যখন ৫/৬ বছর তখন তার রুপ যেন উপছে পড়তো, ঠিক সেই সময় মেয়েটিকে বাড়িতে আনাহলো। সুন্দরী মেয়েটিকে দেখে জিজ্ঞাসা করায় জানতে পারলাম যে, সে আমার মেয়ে। জানেন ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ) আমার পরিচয় পাবার পর সে মিষ্টি মিষ্টি সুরে সারাদিন আব্বু আব্বু করে ডাকতো আমার মুখে চুমা দিত। ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ) ঠিক তখনই আমার মনের শয়তান টা তাকে খুন করার জন্য মনস্থ করে।

ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ) একদিন সুযোগ বুঝে বললাম অকে সাজিয়ে দিতে অকে নিয়ে মামার বাড়ি বেড়াতে যাবো।
ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ)আমি আগে আগে আর মেয়েটা পিছনে হাটছিলো। কিছুদুর যাবার পর মেয়েটা বলল আব্বা এটাতো মামার বাড়ির পথ নয় । আপনি আমাকে কোথায় নিয়ে যান? এর পর মেয়ে বুঝতে পারলো যে, আমি তাকে মেরে ফেলতে নিয়ে যাচ্ছি ।

মেয়েকে নিয়ে যখন এক গর্তের কিনারায় গেলাম তখন মেয়ে আমার দুই পা জড়িয়ে ধরে কাদতে কাঁদতে বলল আব্বাগো  আমপনি আমাকে মেরে ফেলবেন না আমি আপনার বাড়ি আর  কখনো যাবোনা ,আমি জীবনেও আপনাকে আব্বা বলে পরিচয় দেব না। দয়া করে আপনি আমাকে প্রান ভিক্ষা দিন। 

ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ) আমি এত বড় নিষ্টুর পাষান হয়ে গেলাম যে, ঐ চাঁদের মত ফোট ফোটে সুন্দরী মেয়ের কন্না মাখা অনুনয় বিনয়ে ও আমার মন একটুও নরম হলনা। ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ) আমি আমার মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে গর্তে ফেলে দিলাম। তখনো মেয়ে বলল আব্বাগো আপনি আমাকে প্রানে মারবেন না। আমি চিরদিনের জন্য নিরুদ্দেশ হয়ে যাবো আর কখনো আপনার কাছে ফিরে আসব না। দোহাই আব্বা আমাকে পাথর চাপা দেবেন না।

ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ) আমি সেদিন আমার সোনার টুকরা মেয়েকে পাথর চাপা দিয়ে মেরে ফেললাম ।
ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ) আল্লাহ তা'আলা কি আমার এ গুনাহ মাফ করবেন? 
আল্লাহর হাবীব (সাঃ) অ দাহিয়াতুল কালবী তোমার কোন ভয় নাই,তোমার এ গুনাহ মহান রাব্বুল আলামীন মাফ করে দেবেন । তুমি পড় "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ)"।

প্রিয় পাঠক ভাই বোন দেখুন আল্লাহ তা'আলা কি পরিমান ক্ষমাশীন,পরম দয়ালু ।  আপনি যত বড় গুনাহগার হোন আল্লাহ কিন্তু মহান দয়াবান , তার মতো মহান দয়াবান আর কেউ নাই।এজন্য কখনো আল্লাহ তা'আলার রহমত থেকে নিরাশ হবেন না।

এব্যপারে আল্লাহ তা'আলা নিজেই বলেন ( লা-তাক্বনাতু মির রাহমাতিল্লাহী) আল্লাহর রহম থেকে নিরাশ হইওনা। স্বিয় গোনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন।

আল্লাহ আমাদের সহিহ সমজ দ্বান করুন , স্বিয় গোনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করে গুনাহ মুক্ত অবস্থায় কবরে যাওার তাওফিক দ্বান করুন । আমিন, ইয়া রাব্বে কারীম। 

Post a Comment

thenks for your comment

Previous Post Next Post