ইশরক,চাশত,যাওয়াল, আউয়াবী, ও তাহাজ্জুদ এর সময় ও ফজীলত প্রসঙ্গ।
ইশরক, চাশত, যাওয়াল, আউয়াবী, ও তাহাজ্জুদ নামাজ নফল পর্যায়ের। রাসুল (সাঃ) ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাতের পর নফল আমলের প্রতি উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন। নবী কারীম (সাঃ) ইরশাদ করেছেন ,
আল্লাহ তা'আলা বলেন...
আমার বান্দা নফলের মাধ্যমে আমার নিকটবর্তী হতে থাকে। এক পর্যায়ে সে আমার মাহবুব বা ভালোবাসার পাত্র হয়ে যায়। (সহীহ বুখারীঃ- ২; ৯৬৩)
এরূপ নফল নামাজের মধ্যে তাহাজ্জুদ নামায ফজীলতের দিক দিয়ে অন্যতম। সেই সাথে ইশরাক, চাশত, আওয়াবীন ইত্যাদী সময় সংশ্লিষ্ট নফল নামাযের ও অনেক ফজিলতের বর্ণ্না হাদীস শরীফে এসেছে ।
এ ধরনের ফজিলতপূর্ণ নফল আমলের কারনে অন্যান্য নবীর উম্মতের তুলনায় এ উম্মতের বয়সসীমা কম হলেও এসব অতিরিক্ত আমলের দ্বারা ছওয়াব বেশি হওার কারনে অন্য সকল উম্মতের তুলনায় এ উম্মতের আমলের আধিক্য হবে বলে হাদীসে রয়েছে।
তাই নিয়মিত ফজর, ওয়াজিব ও সুন্নাত আমল আদায়ের পর যাদের সময় সুযোগ হয় ,তাদের এ নফল নামায এবং অন্যান্য নফল আমল তৎপর হওয়া উত্তম নেক কাজ।
ইশরাক, চাশত, যাওয়াল, আউওয়াবীন, ও তাহাজ্জুদ এর সময় ও ফজীলত ক্রমানুসারে বর্ণ্না করা হলো----
ইশরাকের নামাজের সময় ও তার ফজিলত ;-
ফজরের নামাজের পর দুনিয়াবী কার্জক্রম ও কথাবার্তা থেকে বিরত থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত স্বীয় নামাজের যায়গায় বা (পুরুষগন ) মসজিদের অন্য কোন যায়গায় বসে কোর'আন তিলাওাত, যিকির-আযকার তাসবীহ-তা'আলীল ইত্যাদীতে লিপ্ত থাকবেন। অতপর সূর্যোদয়ের ১২/১৩ মিনিট পর সূর্য একটু উপরে উঠলে তখন ইশরাকের সময় হয় ।
ঐ সময় ইশরাকের দুই রাকা'আত নামাজ পড়লে এক হজ্জ্ব ও এক উমরার সমান ছাওায়াব লাভ হবে বলে হদীসে রয়েছে। ( জামে তিরমিযী ১/১৩০) এর সাথে আরো দুই রাকা'আত মিলিয়ে মোট চার রাকা'আত পড়লে আল্লাহ তা'আলা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার সকল কাজের জিম্মাদার হয়ে যান বলে অপর হাদীসে উল্লেখ আছে ।(জামে তিরমিযী ,১/১০৮)।
চাশতের নামাজের সময় ও তার ফজীলতঃ-
সূর্য যখন আকাশের এক চতুর্থাংশ উপরে উঠে এবং সূর্যের তাপ প্রখর হয়, তখন থেকে দ্বিপ্রহরের আগ পর্যন্ত (৯টা থেকে ১১ টার মধ্যে ) চাশতের সময় । তখন দুই, চার, আট রাকা'আত নামাজ পড়াহয়, এ কে চাশতের নামাজ বলা হয়।
হাদীস শরীফে আছে চাশতের দুই রাকা'আত নামাজে শরিরের সর্বমোট ৩৬০ টি জোড়ার সদকা আদায় হয়ে যায় । এবং সমুদ্রের ফেনার সমান (সগীরাহ) গুনাহ হলেও আল্লাহ তা'আলা তা মাফ করে দেন।
অপর হাদীসে এসেছে তার জন্য জান্নাতে একটি বালাখানা তৈরী হয় । এছাড়াও হাদিসে চাশতের নামাজের আরো অনেক ফজীলত বর্ণীত হয়েছে।
আউওয়াবীনের নামাযের সময় ও তার ফজীলতঃ-
মাগরিবের ফরজ ও সুন্নাতের পর ইশার ওয়াক্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আওয়াবীনের নামাজের সময় ।
এ সময় নফলের নিয়তে কমপক্ষে ছয় রাকা'আত ঊর্ধে বিশ রাকা'আত পর্যন্ত নামাজ পড়া যায় ।
এ নামাজ কে আওয়াবিনের নামাজ বলে ।
হাদিস শরিফে বর্ণীত আছে , যে ব্যক্তি মাগরিবের সুন্নাতের পর ছয় রাকা'আত নফল নামাজ পড়বে, সে বার বছর ইবাদতের সমান ছওয়াব লাভ করবে । ( জামে তিরমিযী, ১;৯৮)
তাহাজ্জুদ নামাজের সময় ও তার ফজীলতঃ-
নফল নামাজ সমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তাহাজ্জুদ নামাজ। পাঁচ ওয়য়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার পূর্বে এ নামাজ ফরজ ছিলো। পরবর্তীতে তা নফলে গণ্য হয় । এ নামাজ সম্পর্কে নবী কারিম (সাঃ) ইরশাদ করেন, " ফরজ নামাজের পর শ্রেষ্ট নামাজ হলো রাতের (তাহাজ্জুদের ) নামাজ। "( জামে তিরমিযী, ১;৯৯)
শেষ রাতে ত্রিপ্রহরের সময় ( সেহরীর সময়) থেকে সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত এ নামাজের সময় ।
তবে দিনের কঠোর পরিশ্রমে যাদের শেষ রাতে ওঠা অনিশ্চিত হয়, তারা ইশার পর ঘুমানোর পূর্বে তাহাজ্জুদের নিয়তে ৪/৬ রাকা'আত নামাজ পড়ে নিতে পারেন। এরপর সম্ভব হলে শেষ রাতে আবার ওঠে তাহাজ্জুদ পড়বেন। আর না ওঠতে পারলে প্রথম রাত্রির সেই নামাজের কারনে তাহাজ্জুদের ফজীলত থেকে একেবারে মাহরুম হবেন না ইনশা আল্লাহ।
আরেকটি ফজীলত পূর্ণ নামাজ হচ্ছে 'যাওয়ালের' নামাজঃ-
এ নামাজ দুপুরে সুর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ার সাথে সাথে আদায় করতে হয়। যেমনঃ- নামাজের স্থায়ী সময়সূচি ক্যালেন্ডারে যোহরের যে শুরু্য ওয়াক্ত দেয়া হয় , সেটাই সূর্য ঢলার সময় ।
সেই সময় হওয়ার সাথে সাথেই যাওয়ালের নামাজ হিসাবে চার রাকা'আত নফল নামাজ পড়তে হয়।
এ নামাজের ফজীলত হলোঃ- এ সময় আল্লাহ তা'আলা আসমানের সব দরজা খুলে দেন এবং আছানীর সাথে সব ইবাদত-বন্দেগী ও দু'আ কবুল করেন। ( জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৪৭৮)
ফজরের সময় ও আসরের সময় তাহিইয়াতুল অজু ও দুখুলুল মাসজিদ নামাজ পড়ার বিধানঃ-
ফজরের সময় হওার পর থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত ফজরের সুন্নত ব্যতিত সব ধরনের নফল নামাজ পড়া মাকরুহ। চাই ঘরে পড়া হোক কিংবা মসজিদে । অতএব ফজরের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার পর তাহিইয়াতুল অজু বা দুখুলুল মাসজিদ পড়বে না। তবে ফজরের সুন্নতে সাথে তাহিইয়াতুল অজু ও দুখুলুল মাসজিদ নামাজের নিয়ত করে নিয়ে তার সওয়াব পেয়ে যাবে। এবং জামাতের সময় হওয়া পর্যন্ত বাকি সময় তাসবিহ-তা'হলিল , দুরূদ শরীফ ইত্যাদী পড়েবে। ( সুনানে আবূ দাউদ ১/১৮১; ফাতহুল কাদীর ১/২৪০; রদ্দুল মুহতার ১/ ৩৭৪)
সুবহে সাদিকের পরে ফজরের ফরজ নামাজের আগে দুই রাকা'আত সুন্নত ছাড়া অন্য নফল নামাজ পড়া প্রমানিত নয় , বরং মাকরূহ।
আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়ার তৌফিক দান করুন। আমীন ।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বৈজ্ঞানিক উপকারিতা নিয়ে একটি লেখা আশা করছি আপনার কাছে। মহান আল্লাহ তায়ালা আপনাকে নেক হায়াত দান করুন।
ReplyDeletePost a Comment
thenks for your comment